গরুর মাংস দিয়ে বানানো সেরা ১০ টি মজাদার রেসিপি
গরুর মাংস দিয়ে বানানো সেরা ১০টি মজাদার রেসিপি সম্পর্কে আজকে আমরা জানবো। আমরা প্রত্যেকে গরুর মাংস অনেক পছন্দ করে থাকি।। আজকের যে রেসিপিগুলোর কথা বলব সেগুলো একবার খেলে সবার মুখে লেগে থাকবে আর এগুলো সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানানো রেসিপি ।
আমাদের বাঙ্গালীদের কাছে গরুর মাংস মানেই এক অন্যরকম ভালোবাসা। গরুর মাংসের কথা মনে হলেই সবার মুখে জল চলে আসে তাও আবার সেগুলো যদি হয় বাসায় বানানো গরুর মাংস। সামনে কোরবানি ঈদ আসছে তাই অবশ্যই এই রেসিপিগুলো একবার হলেও ট্রাই করবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ গরুর মাংস দিয়ে বানানো সেরা ১০ টি মজাদার রেসিপি
- গরুর মাংস দিয়ে বানানো সেরা ১০টি মজাদার রেসিপি
- ঘরোয়া স্বাদের মজাদার গরুর মাংস ভুনা
- নরম ও সুস্বাদু গরুর মাংসের কোরমা
- রাজশাহী বিখ্যাত মজাদার গরুর কালা ভুনা
- সুগন্ধি মসলা দিয়ে গরুর মাংসের কাচ্চি বিরিয়ানি
- গরুর মাংসের রেস্টুরেন্ট স্টাইলে রেজালা
- গুরুর মাংসের মসলাদার সাদের তেহেরি
- সহজে গরুর মাংসের স্টেক বানানোর রেসিপি
- চুইঝাল দিয়ে গরুর মাংস রান্না করার ইউনিক রেসিপি
- শেষ কথাঃগরুর মাংস দিয়ে বানানো সেরা ১০ টি মজাদার রেসিপি
গরুর মাংস দিয়ে বানানো সেরা ১০টি মজাদার রেসিপি
গরুর মাংস দিয়ে বানানো সেরা ১০টি ঈদের রেসিপিটা একবার ট্রাই করলে আপনার মুখে
সারা জীবন স্বাদ লেগে থাকবে। তারপর আজকে দেওয়া রেসিপিগুলো ট্রাই করলে সারা
জীবন ভুলতে পারবেন না। এইটা বানাতে কোন বাহিরের মসলা বা দামি
কোন উপকরণ একদমই ব্যবহার করা হয়নি। তাই আপনি নিশ্চিন্তে এই রেসিপিগুলো
একবার হলেও বানিয়ে দেখতে পারেন।
সামনে আসছে কুরবানি ঈদ।আর কুরবানি ঈদ মানেই গরুর মাংসের বিভিন্ন রান্নার স্বাদ
গ্রহণ করা। এবারের সামনে কোরবানি ঈদে গরুর মাংসের রান্না গুলো যদি একটু ভিন্ন
হয় তাহলে খারাপ হয় না ।তাই আজকে সেই দিক বিবেচনা করেই গরুর মাংসের সেরা ১০ টি
রেসিপি নিয়ে এসেছি। বিশেষ করে আজকের সহজ পদ্ধতিতে গরুর মাংসের ভুনা রেসিপি
নিয়ে আলোচনা করা হবে ,যা বানান একদম সহজ। এরপর গরুর মাংসের কালা ভুনা সবার
পছন্দের একটি খাবার এই রেসিপিও আজ সকলের সামনে তুলে ধরা হয়।
এরপর চুই ঝাল দিয়ে গরুর মাংস রান্নার কথা না বললেই নয়। সম্প্রতি প্রায়ই সকল
জায়গায় চুই ঝালের মাংস বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছে এটি খুলনা এলাকায় বেশী
জনপ্রিয় তবে এখন সব জায়গাতে জনপ্রিয় হয়েছে। তাই আমরা আজকে একটি ইউনিক
পদ্ধতিতে চুই ঝালের গরুর মাংস রেসিপি সম্পর্কে জানব। সবশেষে, আমরা জানবো সকলের
পছন্দ বিরিয়ানি তেহেরি রান্নার রেসিপি, আর শুধু গরুর মাংসের রেসিপি সম্পর্কে
জানব না বরং জানবো সহজে গরুর মাংস দিয়ে কিভাবে স্টেক বানানো যায় ।তাই
এখন গরুর মাংস দিয়ে বানানো সেরা ১০টি ঈদের রেসিপি সম্পর্কে জানতে নিচে
বিস্তারিত পড়ুন।
ঘরোয়া সাধের মজাদার গরুর মাংস ভুনা
ঘরোয়া সাধের মজাদার গরুর মাংস ভুনা বাংলাদেশের খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার।
সাধারণত ভাত, পোলাও বা রুটির সাথে এই খাবারটি খেতে দারুন লাগে। ঘরের সহজ মসলা
ব্যবহার করে খুব সুস্বাদু পদ্ধতিতে এই রান্নাটি তৈরি করা যায়। বিশেষ করে
পরিবারের কোন ছোট অনুষ্ঠান বা অতিথি এলে এই গরুর মাংস ভুনা রান্না করলে সবাই
খুশি হয়ে খাওয়া দাওয়া করে।
এই ভুনা রান্নার জন্য গরুর মাংসের সাথে পেঁয়াজ, রসুন, আদা,মরিচ এবং বিভিন্ন
ঘরোয়া মসলা ব্যবহার করা হয়। ধীরে ধীরে মাংস ভালোভাবে কষিয়ে নিলে এর স্বাদ
আরো বেড়ে যায় ।মসলার সুগন্ধ ও মাংসের নরম স্বাদ একসাথে মিলিয়ে খাবারটি করে
তোলে অসাধারণ ।তাই অনেকের রেস্টুরেন্ট এর চেয়ে ঘরে তৈরি ভুনা বেশি পছন্দ
করে।
সঠিকভাবে রান্না করলে গরুর মাংস ভুনা অনেক বেশি মজাদার ও রসালো হয়। ধীরে আচে
রান্না করলে মাংস ভালো ভাবে সিদ্ধ হয় এবং মাংসের ভিতরে ঢুকে যায় ।এই কারণে
ঘরোয়া পদ্ধতিতে রান্না করা গরুর মাংস ভুনা সবসময় আলাদা স্বাদ এনে দেয়।
পরিবারের সবাই মিলে গরম ভাতের সাথে এই ভুনা খাওয়ার আনন্দ আলাদা।
আরো পড়ুনঃ১
নরম ও সুস্বাদু গরুর মাংসের কোরমা
নরম ও সুস্বাদু গরুর মাংস কোরমা আমাদের দেশে একটি খুবই জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী
বিশেষ খাবার। বিশেষ করে ঈদ দাওয়াত বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে এই খাবারটি অনেক
বেশি তৈরি করা হয়। গরুর মাংসের সাথে দই ঘি এবং বিভিন্ন সুগন্ধি ব্যবহার
করে কোরমা রান্না করা হয় ।ফলে রান্নাটি যেমন দেখতে আকর্ষণই হয় তেমনি
সাদেও হয়ে ওঠে অসাধারন।
এই কোরমা সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে বেশি রান্না করা হয়। একটা মিষ্টি দিয়ে আর
একটা ঝাল দিয়ে। অনেকে ঝাল বেশি পছন্দ করে আবার অনেকে মিষ্টিও পছন্দ করে
।পেঁয়াজ,আদা, রসুন ,দই ও গরম মসলা সুস্বাদু সমন্বয় কোরমাকে করে তোলে আরো
সুস্বাদু ।তাই অনেকেই পোলাও বা নান রুটির সাথে এই কোরমা খেতে পছন্দ করে।
সঠিকভাবে রান্না করলে গরম মাংস কোরমা খুবই নরম ও মজাদার হয় ।ধীরে আচে রান্না
করার ফলে মাংস ভালো হবে সিদ্ধ হয় এবং ঝোল ঘন ও সুগন্ধি হয়ে ওঠে ।এই কারণে
শুধু একটি সাধারণ রান্না নয় বরং এটি অনেকের কাছে একটি বিশেষ খাবার যেটি সবাই
মিলেএকসাথে খেতে খুবই ভালো লাগে।
রাজশাহীর বিখ্যাত মজাদার গরুর কালা ভুনা
রাজশাহির খাবারের তালিকায় গরুর কালা ভুনা একটি অত্যন্ত
জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী পদ ।আর এই কালা ভুনা খেতে গেলে চলে যাইতে হবে
রাজশাহী শহরের নওহাটা নামক জায়গায় ।কারণ এই নওহাটা কালা ভুনার জন্য অনেক
বিখ্যাত ।দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন এখানে শুধু কালা ভুনা খাইতে আসে ,কারণ
এখানকার কালাভুনাতে মশলার সঠিক মিশ্রণ ধীরে ধীরে রান্না করা এবং মাংসের গারো
কাল যে রং এই তিনটি বিষয়ে এই খাবার কে আলাদা স্বাদ ও আকর্ষণ দেয়। সাধারণত
পেঁয়াজ ,রসুন ,আদা বাটা এছাড়া আরো মসলা দিয়ে এটিকে আরো লোভনীয় করে তোলে।
রাজশাহীর কালাভুনার বিশেষত্ব হল এর ঘন ঝোল, দীর্ঘ সময় ধরে কম আচে মাংস
ভাজা হয় ফলে মাংস নরম সুগন্ধি হয়ে ওঠে এবং একটি গাঢ় বাদামী কালচে রং ধারণ
করে ।এই রান্নার সময় মসলার সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে যা খাওয়ার আগে খোদা
বাড়িয়ে দেয় অনেক জায়গায় অতিরিক্ত মরিচ ব্যবহার করা হয় গরম ভাত পোলাও
কিংবা রুটির সঙ্গে ।রাজশাহীর মজাদার কালা ভুনা খেতে অসাধারণ লাগে।
সুগন্ধি মসলা দিয়ে গরুর মাংসের কাচ্চি বিরিয়ানি
সুগন্ধি মসলা দিয়ে তৈরি গরুর মাংসের কাচ্চি বিরিয়ানি বাঙ্গালীদের কাছে
অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু একটি খাবার ।নরম গরুর মাংস বাসমতি চাল এবং বিভিন্ন
ধরনের সুগন্ধি মসলার মিশ্রণে এই বিরিয়ানি তৈরি করা হয় ।সাধারণত আদা-রসুন বাটা
,দইজিরা ,এলাচ ,দারুচিনি ,তেজপাতা ,জয়ফলজয়ত্রী এবং ঘি ব্যবহার করে মাংস
মেরিনেট করা হয় যা কাচ্চি বিরিয়ানি কে দেয় অনন্য সাদ সুগন্ধ।
এ বিরিয়ানির বিশেষত্ব হল মাংস ও চাল একসাথে দমে রান্না করা ।প্রথমে মেরিটনেট
করা মাংস হারের নিচে রাখা হয় ,তারপর তার ওপর আধা সিদ্ধ চাল, আলু এবং বেরেস্তা
ছড়িয়ে দেওয়া হয় এরপর ঘি, কেওড়া জল ও জাফরানের হালকা সুবাস দিয়ে ঢেকে ধীরে
ধীরে দমে রান্না করা হয় ।এই প্রক্রিয়ায় মাংস ও চাল একসাথে মিশে এমন একটি
গভীর স্বাদ তৈরি করে যা কাচ্চি বিরিয়ানি কে অন্য সব বিরিয়ানি থেকে আলাদা করে
তোলে।
গরম গরম কাচ্চি বিরিয়ানি সাধারণত বোরহানি সালাত বা ঠান্ডা দইয়ের সাথে পরিবেশন
করা হয়। বিশেষ উৎসব পারিবারিক অনুষ্ঠান বা অতিথি আপ্যায়নে এই খাবারটি অনেক
বেশি জনপ্রিয় ।সুগন্ধি মসলা নরম মাংস এবং ঝরঝরে চালের সমন্বয়ে গরুর মাংসের
কাচি বিরিয়ানি সত্যি এক অন্যরকম ঐতিহ্য।
গরুর মাংসের রেস্টুরেন্ট স্টাইলের রেজালা
গরুর মাংসের রেস্টুরেন্ট স্টাইলের রেজালা হল এক ধরনের সুগন্ধি ও মসলাদার
মাংসের পদ, যা রেস্তোরাঁর খাবারের মতো লোভনীয় এটি মূলত মসলা সঠিক
সংমিশ্রণে তৈরি হয় যা মাংসকে দেয় মসলা ও স্বাদের গভীরতা ।রেস্টুরেন্ট
স্টাইল রেজালা এর গুণ হলো নরম মাংস ঘন ও মসলা দার ঝোল ,আর উজ্জ্বল লাল রং
যা চোখে খাবারের আকর্ষণ বাড়াই ,নরম গরুর মাংস কে দই আদা ,রসুন বাটা, লাল মরিচ
এবং গরম মসলা দিয়ে মেরিনেট করে ধীরে ধীরে ঘি বা তেলে ভুনে তৈরি করা হয় ।
পেঁয়াজ দারুচিনি এলাচ লবঙ্গ ও তেজপাতা ঝোলের যোগ করে সুগন্ধ বাড়ানো হয়। যা
কিছু রেস্তোরাঁ কৌশল হল ক্রিম বা কাচ্চিদের ব্যবহার করে ঝোলকে ঘন ও নরম
করা যাতে মাংসের ভেতর পর্যন্ত মসলার স্বাদ প্রবেশ করে। পরিবেশন করার সময়
রেস্টুরেন্ট স্টাইল রেজালার ওপর বেরেস্তা ও তাজা ধনেপাতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়
।যা আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। রেস্টুরেন্ট স্টাইল এই গরুর মাংসের
রেজালা হল পারিবারিক বা অতীতে আপ্যায়নের জন্য এক মুখরোচক খাবার।
আরো পড়ুনঃ২
গরুর মাংসের মসলাদার সাদের তেহেরি
গরুর মাংসের মসলাদার স্বাদের তেহেরি বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বর্ণনা
করলাম আমি এটাকে সহজে বোঝানোর চেষ্টা করছি যেন রান্না করতে সুবিধা হয়ঃ
উপকরণঃ
- গরুর মাংস ১ কেজি
- বাসমতি চাল ৫০০ গ্রাম
- পেঁয়াজ ২ থেকে ৩টী
- আদা রসুন বাটা 2 টেবিল চামচ
- দই এক কাপ
- লবণ স্বাদমতো
- হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ
- লালমরিচ গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ
- গরম মসলা ১ চা চামচ
- তেল বা ঘি ১ অথবা ২ কাপ
- জাফরান বা কেওড়া জল এক চা চামচ
- ধনেপাতা সাজানোর জন্য
প্রসেসঃ
১.মাংস মেরিনেট করাঃ
মাংস ধুয়ে নিন একটি বড় বাটিতা। মাংসের সঙ্গে দই, আদা রসুন বাটা, লবণ
,হলুদ, লালমরিচ এবং গরম মসলা ভালোভাবে মিশে এক থেকে দুই ঘন্টায় মেরিনেট করুন।
২. পেঁয়াজ ভাজাঃ
পেঁয়াজ পাতলা করে কেটে ঘি বা তেলে ভেজে নিয়ে যতক্ষণ না সোনালী বাদামের রং হয়
।আর কিছু পেঁয়াজ সাজানোর জন্য আলাদা রাখুন।
৩. মাংস ভুনাঃ
মেরিনেট করা মাংস টি পিয়াজের সঙ্গে ভেজে নিন। মাংস যখন প্রায় আংশিক সিদ্ধ হয়
তখন আরো কিছু মসলা নিয়ে ঝোলটি ঘন করুন ।
৪. চাল সিদ্ধ করাঃ
বাসমতি চাল ধুয়ে আধা সিদ্ধ করে নিন (চাল পুরো সিদ্ধ না হওয়াই ভালো কারণ
মাংসের সঙ্গে দম দেওয়ার সময় রান্না হবে)।
৫. চাল ও মাংস একত্র করাঃ
হাঁড়িতে মাংসের উপর আধা সিদ্ধ চাল ছড়িয়ে দিন ,উপরে ভাজা পেঁয়াজ ধনেপাতা এবং
জাফরান বা কেওড়া জল ছিটিয়ে দিন।
৬. দমে রান্না করাঃ
হাঁড়ি ঢেকে কম আচে ২০ থেকে ২৫ মিনিট ধরে দমে দিন। মাংস ও চাল পুরোপুরি সিদ্ধ
হলে তেহেরি তৈরি।
৭ পরিবেশনঃ
গরম গরম থালাই তুলে ভাত এবং মাংস ভালো হবে মিশিয়ে পরিবেশন করুন ।চাইলে সঙ্গে
কাচ্চি দই বা সালাদ দিতে পারেন।
সহজে গরুর মাংসের স্টেক বানানোর রেসিপি
সহজে গরুর মাংসের স্টেক বানানোর রেসিপি নিচে দেওয়া হল
উপকরণঃ
- গরুর মাংসের স্টেক ২ পিস
- লবণ সাদ মত
- কাচা মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
- রসুন বাটা ১ চা চামচ
- সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল ২ টেবিল চামচ
- ঘি বা মাখন এক টেবিল চামচ
- লেবুর রস এক চা চামচ
- হালকা মসলা
প্রসেসঃ
১.মাংস প্রস্তুত করাঃ
মাংস ধুয়ে কাগজের তোয়ালে দিয়ে শুকনো করুন এরপর উভয় দিক লবণ মরিচ রসুন বাটা
এবং লেবুর রস দিয়ে মেরিনেট করুন ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দেন।
২.পেন গরম করাঃ
ননস্টিক বা হেবি বটম প্যান্ট গরম করুন তাতে সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল দিন।
৩.মাংস ভাজাঃ
মাংসের পিস গুলা প্যানে রাখুন ,প্রতিটি দিক প্রায় তিন থেকে চার মিনিট বা
মাংসের গুরুত্ব অনুযায়ী সোনালী বাদামি রং হওয়া পর্যন্ত ভাজুন মাংস বেশি না
ভাজা ভালো।
৪.ঘি বা মাখন যোগ করাঃ
প্রায় শেষের দিকে এক টেবিল চামচ মাখন প্যানে দিন পেনের ঘি বা মাখন দিয়ে
মাংসের ওপর হালকা ব্রাশ করুন যা স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াবে।
৫.পরিবেশণঃ
গরম গরম প্লেটের স্টেক রাখুন চাইলে সঙ্গে আলু ফ্রাই সালাত বা হালকা সস
দিতে পারেন।
চুই ঝাল দিয়ে গরুর মাংস রান্না করার ইউনিক রেসিপি
চুই ঝাল একটি বিশেষ ধরনের মসলা। যা সাধারনত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা
গুলোতে খাবারে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ,আর গরুর মাংসের সাথে চুই ঝাল মাংসের
স্বাদ বাড়িয়ে দিতে পারে ,এই ঝোলটি স্বাদে বেশি ঝাল না হলেও এর
ফ্লেভার অসাধারণ ।চুই ঝাল একপ্রকার গাছের শিকড় যার ফলে এটি রান্নার ঝাল
বাড়ায় না বরং এটি মাংসের এক প্রকার ঘ্রাণ ও অন্যরকম স্বাদ প্রদান করে।
উপকরণ:
- লম্বা করে কাটা চুইঝাল ১ কাপ পরিমাণ
- হাড় সহ মাঝারি টুকরা করা ১ কেজি মাংস
- তিন কাপ পরিমাণ পেঁয়াজ কুচি
- ১ টেবিল চামচ আদা বাটা
- ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা
- ১ চা চামচ মরিচ গুঁড়া
- ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়া
- ১ চা চামচ ধনে গুঁড়া
- ১/২ চা চামচ জিরা গুড়া
- ১/২ চা চামচ গরম মসলা গুড়া
- ২টি থেকে তিনটি তেজপাতা
- এক টুকরো দারুচিনি
- ২টি থেকে ৩টি এলাচ ২টি থেকে ৪টি লবঙ্গ
- স্বাদমতো লবণ
- ১/২ কাপ পরিমাণ সরিষার তেল
- ৫ টি থেকে ৬টি কাঁচা মরিচ
- পরিমাণ মতো পানি
প্রথমে গরুর মাংস ভালোভাবে ধুয়ে সরিষার তেল তেজপাতা এলাচ দারুচিনি ফোড়ন
দিয়ে পেঁয়াজ কুচি ভেঙ্গে নিতে হবে ,এরপর তাতে আদা, রসুন বাটা, মরিচ ধনে
জিরা গুঁড়া ও লবণ দিয়ে মসলা কষিয়ে মাংস দিয়ে ভালোভাবে ভুনা করে নিতে হবে
।মাংস থেকে যখন তেল ছেড়ে দিবে তখন পরিষ্কার করে কাটা চুই ঝাল দিয়ে আরো
কিছুক্ষণ করতে হবে। তারপর পানি দিয়ে ঢেকে ধীরে ধীরে চুলায় সেদ্ধ হতে দিন
যেন মাংস আর চুই ঝাল নরম হয়।।
যখন ঝোলটা ঘন হয়ে আসবে আর তেল উপরে উঠে আসবে তখন বুঝবেন রান্না শেষের পথে
।এবার উপর দিয়ে একটু গরম মসলা ছড়িয়ে দিন আর ঢেকে রেখে দুই থেকে তিন মিনিট
রেখে দিন ।এই রান্নার টার মজাই হচ্ছে এর ঘ্রাণ আর চুই ঝাল ।নাকে
মুখে এক অন্যরকম তৃপ্তি এনে দেয় ।সাদা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করলে বুঝা যাবে এর
আসল স্বাদ কতটা দারুন একবার খেলে এই ইউনিক রেসিপি বারবার রান্না করতে মন
চাইবে।
আরো পড়ুনঃ৩
শেষ কথা: গরুর মাংস দিয়ে বানানো সেরা ১০টি মজাদার রেসিপি
গরুর মাংস দিয়ে বানানো সেরা দশটি ঈদের রেসিপি নিয়ে আমরা উপরে বিস্তারিত
আলোচনা করেছি বা যারা খাবার খেতে পছন্দ করেন তাদের জন্য আজকের এই রেসিপিগুলো
অনেক কাজে আসতে পারে। কারণ এই রেসিপিগুলো বাড়িতে বানানোর জন্য দামি কোন মসলা
বা উপকরণ না লাগার কারণে আপনারা ঘরে থাকা মশলা উপকরণ দিয়ে রেসিপিগুলো খুব সহজে
বানিয়ে ফেলতে পারেন। তাই যারা গরুর মাংস পছন্দ করেন তাদের জন্য এই রেসিপিগুলো
নিঃসন্দেহে রান্না করে দেখার মত।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url